সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৫

সাকিবদের মাটিতে নামালেন মাহমুদউল্লাহ


১, ১, ১...। প্রথম তিন ব্যাটসম্যান যেভাবে মিছিল করে গেলেন, তাতে চতুর্থজনও যোগ দিলে কী বিপদই না হতো! এমনিতেই বরিশাল বুলস কম বিপদে পড়েনি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রানের বন্যা হওয়ার কথা, নদীবিধৌত বরিশাল দেখাল উইকেটের বন্যা। ৪ ওভারে ১৫ রানের মধ্যে নেই ৪ উইকেট! চার ওভারের ‘চার’-এর এই অভিশাপকে বরে রূপ দিলেন চারে নামা মাহমুদউল্লাহ। তাঁর ফিফটি, সঙ্গে লোয়ার মিডল অর্ডারের অবদানে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান করেছে বরিশাল।


শুধু ব্যাট হাতে উদ্ধার করেছেন বলেই নয়, গতকালের জয়টায় আক্ষরিক অর্থেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কের ভূমিকায় ঠিক সময়ে ঠিক বোলারদের ব্যবহার করেছেন মিরপুরের শীত শীত ভেজা কন্ডিশনে। প্রথম ম্যাচে নাটকীয় জয় পাওয়া সাকিবের রংপুর রাইডার্স এদিন তাই জ্বলে উঠতে পারল না। ১৪২ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটা হারল ১৩ রানে।


শুধু ফিফটিই নয়, মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটার মাহাত্ম্য বাড়ছে অন্য কারণেও। ৪৩ বলে পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় খেলা ৫১ রানের ইনিংস শুরুর ওই ধাক্কা শুধু সামালই দেননি, পরের ৬৮ বলে উইকেট অক্ষত রাখার ব্যবস্থাও করেছেন নাদিফ চৌধুরীর সঙ্গে ৮২ রানের জুটি গড়ে। এর ওপর ভিত্তি করেই শেষ ৩ ওভারে ৪৩ রান তুলে নিতে পেরেছে বরিশাল। অথচ প্রথম ১০ ওভারে তারা তুলতে পেরেছিল মোটে ৫৬।


শেষ ওভারগুলোতে এই ঝড় তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে কেভন কুপারের ১৩ বলে ২১, সেকুগে প্রসন্নর ৪ বলে ১২, মোহাম্মদ সামির ৫ বলে ১৫ রানের ছোট্ট ঝড়গুলো। তবে ৩১ বলে ৩০ করা নাদিফকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। মাহমুদউল্লাহকে পঞ্চম উইকেটে তিনিই তো দিলেন যোগ্য সঙ্গ। প্রথম ম্যাচটা ব্যাটে-বলে ভালো না গেলেও গতকাল বল হাতে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। একই ওভারে আবার ফিরিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ ও নাদিফকে।

সাকিব অবশ্য এদিনও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। করেছেন মাত্র ৬। ৩২ বলে ৫৫ করা মোহাম্মদ মিঠুনই রংপুরকে দেখাচ্ছিলেন পথ। কিন্তু বরিশালের মতো শেষের ওভারগুলোতে আর ঝড় তুলতে পারেনি রংপুর। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। উল্টো ওই ওভারে তিনটি উইকেটসহ মেডেন নিয়েছেন কুপার। একটি লেগ বাই পেয়েছে বটে রংপুর, সঙ্গে রানআউট মিলিয়ে ওই ওভারেই উইকেট হারিয়েছে চারটি।


এবারের বিপিএলে প্রথম ৫ উইকেটের দেখা পেলেন কুপার। তবে ম্যাচের আসল নায়ক তিনি নন। রংপুরের ইনিংসটা শেষ হয়েছে মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ এক ক্যাচে। এটাই দরকার ছিল। ম্যাচটাও যে মাহমুদউল্লাহময়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বরিশাল বুলস: ২০ ওভারে ১৫৫/৯ (শাহরিয়ার ১, রনি ১, টেলর ১, মাহমুদউল্লাহ ৫১, সাব্বির ১১, নাদিফ ৩০, প্রসন্ন ১২, কুপার ২১, সামি ১৫, তাইজুল ৭*, আল আমিন ২*; সাকিব ৩/২৩, পেরেরা ৩/২৯, সাকলাইন ১/৩৭, জায়েদ ০/৩৬, মুক্তার ০/১৬, স্যামি ০/১৩)।
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৪২ (সিমন্স ১৯, সৌম্য ১৭, সাকিব ৬, মিসবাহ ১৯, মিঠুন ৫৫, পেরেরা ১৭, স্যামি ২, আল আমিন ৪, মুক্তার ০, সাকলাইন ০*, জায়েদ ০; সামি ২/৩৫, আল আমিন ০/৩৯, মাহমুদউল্লাহ ০/১৬, কুপার ৫/১৫, প্রসন্ন ১/২৪, তাইজুল ০/১১)।
ফল: বরিশাল ১৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কেভন কুপার।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন