শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৪

সাকিবের ‘শ্রেষ্ঠ’ অর্জন


BANGLADESH VS ZIMBABWE 1st ODI 21/11/2014

আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে | আপডেট: |
 
 
সেঞ্চুরির পথে আরেকটি দুর্দান্ত শট সাকিব আল হাসানের। পরে বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন এই অলরাউন্ডার l শামসুল হকগ্যালারির গর্জন শুনে কে বলবে, মাত্রই একটি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ! মাহমুদউল্লাহ তখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে থরথর বাংলাদেশ। ক্ষণিকের নীরবতা, পরমুহূর্তেই গগনবিদারী চিৎকার। একজনের বিদায়ে বেদনা নেই, আরেকজনের আগমনই উৎসবের উপলক্ষ!
নামটা যখন সাকিব আল হাসান, অকল্পনীয় নয় কিছুই। সেটা হোক মাঠের কীর্তিতে, হোক মানুষের মন রাঙাতে। এই সিরিজেই যেমন কালকের এই দৃশ্য দেখা গেছে আগেও বারবার। মিরপুর থেকে খুলনা বা এই চট্টগ্রামে। সাকিব উইকেটে নামার সময় বোঝা মুশকিল মাত্রই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সাকিবের আগমনই বইয়ে দেয় আনন্দজোয়ার। বল হাতে নেওয়ার সময়ও গ্যালারি একইভাবে জানিয়েছে সম্ভাষণ।
শচীন টেন্ডুলকারের ক্ষেত্রেও ভারতজুড়ে দেখা গেছে এই দৃশ্য। দলের উইকেট পড়েছে, তাতে কী? টেন্ডুলকার তো নামছেন! এভাবেই কখনো কখনো কোনো একজনের দলকে ছাপিয়ে যাওয়া, অনেক সময় খেলাটার চেয়েও যেন বড় হয়ে ওঠা। সাকিব অবশ্যই টেন্ডুলকার নন। কিন্তু ভরসা, আস্থা, বিশ্বাস আর বিনোদন বিলানোয় বাংলাদেশে একই উচ্চতায় সাকিব। দল যে অবস্থায়ই থাকুক, গোটা বাংলাদেশ বিশ্বাস করে আমাদের ‘সুপারম্যান’ কিছু একটা করবেনই। ওই বিশ্বাসটাও জন্মেছে প্রত্যাশার প্রতিদান সাকিব বেশির ভাগ সময় দিতে পারেন বলেই। যেমন দিলেন কাল। বিপর্যয়ে নেমেছিলেন। দারুণ এক সেঞ্চুরি করে যখন ফিরছেন, বিব্রতকর কিছুর শঙ্কাটাকে অনেক পেছনে ফেলে দল তখন বড় স্কোরের পথে। পরে মাঠ মাতালেন বল হাতেও।

 


সাকিব কাল মাতিয়েছেন উদ্যাপনেও। এমনিতে আগে কখনোই সাকিবের উদ্যাপনে তৃপ্তি বা উচ্ছ্বাস সেভাবে ফুটে উঠত না কখনো। ব্যতিক্রমী কিছুও দেখা যায়নি। তবে নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর এই জায়গাটায় দেখা যাচ্ছে সাকিবকে। খুলনায় টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়ার পর বাতাসে এঁকেছিলেন ভালোবাসা। কাল সেঞ্চুরি এনে দেওয়া শটটি খেলতেই শূন্যে লাফিয়ে উঠলেন উইকেটে সাকিবের সঙ্গী মুশফিক। সাকিব তখনো কিছু করছেন না। রানটি পুরো হওয়ার পর খুললেন হেলমেট, মাটিতে রাখলেন ব্যাট। গ্যালারির দিকে কুর্নিশের মতো করে মাথা নোয়ালেন আর চারপাশে ঘুরে ভঙ্গি করলেন হাত দিয়ে শট খেলার মতো! এর পর আবার এক হাতে ব্যাট, আরেক হাতে হেলমেট উঁচিয়ে ধরলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। এত আয়োজন করে এত দীর্ঘ উদ্যাপন—এই সাকিবকে দেখা যায়নি আগে কখনো!
টেস্টের মতো এই সেঞ্চুরিটাও এল দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর। খুলনায় করা টেস্ট সেঞ্চুরি ছিল তিন বছর পর, এই ওয়ানডে সেঞ্চুরি এল চার বছর পর! মাঝের এই সময়ে পারফরম্যান্স খারাপ ছিল না মোটেও। ৩৭ ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন ১১ বার। কিন্তু সর্বোচ্চ ছিল ৭৯। কাল দলের দারুণ প্রয়োজন কাটাল সাকিবের সেঞ্চুরি-খরা।
ইদানীং সাকিব মাঠে নামলেই সঙ্গী হচ্ছে নানা রেকর্ড-অর্জন। কালও যথারীতি হয়েছে একগুচ্ছ। চার বছরের সেই সেঞ্চুরি-খরার পরও বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল তাঁর। কাল সেটিকে নিয়ে গেলেন সবার থেকে আরেকটু দূরে। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ৪ উইকেট। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান তাঁর, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে উইকেটসংখ্যায় কালই ছুঁয়েছেন মাশরাফিকে (১৭৫)। ছোটখাটো আরও কত অর্জন!
তবে সবচেয়ে বড় অর্জন কিন্তু এসব কিছুই নয়। রেকর্ড বইয়ে তো আর লেখা থাকবে না মানুষের মনে কীভাবে নাম খোদাই করেছেন! ব্যাট হাতে নামা বা বল হাতে নেওয়ার সময় গ্যালারির যে গর্জন, সেটিই শ্রেষ্ঠ অর্জন।
বিশ্বাস হচ্ছে না? সাকিব নিজে কি বলছেন শুনুন, ‘লোকে যখন গলা ফাটিয়ে নাম ধরে ডাকে, সেই অনুভূতির তুলনা নেই।’
তুলনা থাকবে কী করে? ওই গলা ফাটানো, ওই যে গর্জনে মিশে থাকে মানুষের বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা!




0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন